ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কমিটি গঠন করা হয়।

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তিনি নিজে সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডের ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়। তবে রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘পদদলিত হয়ে’ ৬ জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।

মৃতের তালিকায় থাকা একজন এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যমতে, নিহত চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন এক বার্তায় হাজেরা বেগম, শাহজাহান, রমজান, জাহানারা, কুলসুমা ও অজ্ঞাত এক শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যুর খবর জানালে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। 

যদিও এর কিছুক্ষণ পরই, রাত দেড়টার দিকে রেঞ্জ ডিআইজির মিডিয়া শাখার মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রাথমিকভাবে দুজনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তাদের স্বজনরা।

ওই দুজন হলেন,  তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট সহায়তায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।