সরকারি কার্যালয়গুলোতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে রাখতে বলা হয়েছে। কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
গত রবিবার এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আইনজীবী শরীফ সরকার ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকীর মাধ্যমে রিটটি করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ আদেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারির কথাও বলা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকার নেই - এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নিজেদের অফিসকক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো কিংবা উত্তোলন না করেন।
এছাড়া অফিসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা বা অলংকরণের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা যাবে না। ব্যক্তিগত দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবেও জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে আদালত একটি রুলও জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কার্যালয়ে আইন অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা প্রদর্শনের অধিকার নেই - এমন কর্মকর্তাদের চেয়ার ও সোফার পেছনে দণ্ডে উল্লম্বভাবে জাতীয় পতাকা টাঙানো বা প্রদর্শন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
একইসঙ্গে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।