Monday, September 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হাইকোর্ট: পরোয়ানা পেলেই গ্রেপ্তার নয়, সত্যতা যাচাই করতে হবে

প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

পুলিশ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করতে পারবে না। পরোয়ানা কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। একইসঙ্গে নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।

মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করবেন। যাচাইয়ের পরই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।”

এ নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়পত্র এবং বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে হবে। জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ (সিএমএম) সংশ্লিষ্ট বিচারকদের এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আদালত রায়ে বলেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তা না হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে।

ভুয়া পরোয়ানায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, নাগরিকের এসব অধিকার নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।

আদালত আরও বলেছেন, আদালতের মাধ্যমে যেন কোনো মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার—উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় একজন নাগরিকের যে ক্ষতি হতে পারে, তা পরে পূরণ করা সম্ভব নয়।

এর আগে, ২০১৩ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিটটি দায়ের করে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

   

About

Popular Links

x