Sunday, September 13, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

জেলার সদর থানায় ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ীর করা মামলায় ২ জনকে গ্রেপ্তারের পর ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় কনস্টেবল জাকির হোসেন ও ব্যবসায়ীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুম। মামলায় কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি কনস্টেবল জাকির হোসেন ও বাদীর দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করবেন।

কনস্টেবল জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে। গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গলিত অবস্থায় থাকা ৪০ ভরি স্বর্ণ রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠিয়েছিলেন নিঝুম নামে এক ব্যবসায়ী। তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলী স্বর্ণগুলো রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুরে।

কনস্টেবল জাকির হোসেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে নয়নের বন্ধু। মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে সেখানে কনস্টেবল জাকিরসহ দুইজন হাজির হন। পরে পুলিশ পরিচয়ে তারা স্বর্ণ নিয়ে চলে যান। ঘটনার পর এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি যান জাকির হোসেন। ছুটি শেষে কয়েক দিন আগে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। পরে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মামলার পর পুলিশ লাইন্স থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি স্বর্ণ ফিরিয়ে দেওয়ার সময় জানিয়েছেন, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে রয়েছে। তিনিই স্বর্ণের চালানটির বিষয়ে জাকিরকে জানিয়েছিলেন। স্বর্ণ হস্তান্তরের পর জাকির অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ নিয়ে যান। পরে ৪০ ভরি স্বর্ণ তারা ভাগাভাগি করে নেন।

তবে কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তার হেফাজতে থাকা বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।

ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুইজনকে তার ব্যবহার করা অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। এ ছাড়া ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নের সঙ্গে জাকিরের মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার কথা হয়েছে। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির তার মোবাইল ফোন থেকে নয়নের ফোনে ১০ বার কথা বলেন। ৭ আগস্ট ঘটনার আগের দিন একই নম্বরে ২৫ বার এবং মোহাম্মদ আলীর নম্বরে সাতবার কথা বলেন। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মধ্যে ১০ বার এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ১১ বার কথা হয়। তবে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের পরদিন নয়ন কিংবা তার বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের আর কোনো কথা হয়নি।

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা জানাজানি হলে কনস্টেবল জাকিরকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করলে জাকিরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের অর্ধেক। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, মোহাম্মদ আলী স্বর্ণ বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির হোসেন এখনও তার কাছে থাকা স্বর্ণ ফেরত দেননি। ওই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

   

About

Popular Links

x