খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ৩৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এ নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনে খুলনা বিভাগে মারা গেছেন ১৪ জন। আর ৩,৬৫৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৬০৯৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। আর মৃত্যু ছিল ২০ জনের। ওই দিন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিল ৭৩৫ জন।
স্বাস্থ্য পরিচালকের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাসপাতালগুলোতে ৯৭৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৯১ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৭৪৮ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৯৩ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০৯১ জন এবং এ পর্যন্ত ২৩০ জন রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৪৯ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৬ জন।
জেলা ও হাসপাতালভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় নতুন করে ৯৯ জন (সরকারি হাসপাতালে ৬৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৬ জন), খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৯ জন, বাগেরহাটে ৯২ জন, সাতক্ষীরায় ১৭ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, যশোরে ৪২ জন, ঝিনাইদহে ১৪ জন, মাগুরায় ২ জন, নড়াইলে ৯ জন, কুষ্টিয়ায় ১০ জন, চুয়াডাঙ্গায় ০ জন ও মেহেরপুরে ৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ১০৯১ জনের মধ্যে খুলনায় ৩৮৯ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬৮ জন, বাগেরহাটে ১৩২ জন, সাতক্ষীরায় ৩৯ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, যশোরে ১১৫ জন, ঝিনাইদহে ৩৪ জন, মাগুরায় ১৪ জন, নড়াইলে ২৮ জন, কুষ্টিয়ায় ২৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১১ জন ও মেহেরপুরে ১৯ জন।
এদিকে মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করেছে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) মশক নিধনের জন্য আনা ওষুধ। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে নতুন ওষুধে ১৫ শতাংশ মশার লার্ভাও মরেনি। তাৎক্ষণিতভাবে ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই ওষুধ ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
কীটতত্ববিদদের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার নির্দেশ দিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক।