রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে স্থানীয় থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রিডে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।

যান্ত্রিক ও কারিগরি জটিলতায় ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ করা হয়। ত্রুটি সামাল দিতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা। কিন্তু বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। আসতে আরও ২/১ দিন সময় লাগবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে আরও ৩/৪ দিন লাগতে পারে। এ অবস্থায় আজ দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন খুলনা ও বরিশাল জোনে লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।  

জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১,১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করেই বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে গত রবিবার সকালে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে প্ল্যান্টটির সার্বিক উৎপাদন ১,১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, ভারতীয় প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। বয়লারের প্রাথমিক কাজ দেশি প্রকৌশলীরা শুরু করেছেন। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শতভাগ চালু ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হঠাৎ এমন উৎপাদনে ধস নামায় পুরো খুলনা অঞ্চল জুড়ে গ্রাহকরা চরম লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে মেরামতের কাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে,  বুধবার দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ৬২৯ মেগাওয়াট সরবরাহ ছিল। ফলে লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ১২৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। বরিশাল জোনে ১৮৯ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিং হয় ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

খুলনায় ৫৬ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৮ মেগাওয়াট, কুষ্টিয়ায় ১৩ মেগাওয়াট, ঝিনাইদহে ১১ মেগাওয়াট, চুয়াডাঙ্গায় ৬ মেগাওয়াট, ফরিদপুরে ৬ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১২ মেগাওয়াট, মাদারীপুরে ৬ মেগাওয়াট, শরীয়তপুরে ২ মেগাওয়াট, গোপালগঞ্জে ৪ মেগাওয়াট, বরিশালে ৩১ মেগাওয়াট, ঝালকাঠিতে ৫ মেগাওয়াট, পিরোজপুরে ৩ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীতে ৬ মেগাওয়াট, বরগুনায় ৩ মেগাওয়াট ও ভোলায় ৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় ৭৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল। ফলে লোডশেডিং ছিল ৩০ মেগাওয়াটের। খুলনা জোনে চাহিদা ছিল ৫৮০ মেগাওয়াট। ৫৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে ২৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। বরিশাল জোনে ১৬৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিং ছিল ৪ মেগাওয়াট।

মাগুরায় ৪ মেগাওয়াট, নড়াইলে ১ মেগাওয়াট, ফরিদপুরে ৬ মেগাওয়াট, রাজবাড়ীতে ১০ মেগাওয়াট, মাদারীপুরে ৩ মেগাওয়াট, শরীয়তপুরে ২ মেগাওয়াট, পটুয়াখালীতে ২ মেগাওয়াট, ভোলায় ২ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।