নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটি আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দাবি না মানলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় বিশ্বরোড থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ফকিরহাটের ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।

চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে চলমান সব কার্যক্রম বন্ধ করা, আগের আন্দোলনের ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃবৃন্দসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় জড়িত বন্দরের কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে বন্দরের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তৎকালীন সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারও এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও পেশাজীবী-শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের কারণে ওই প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে আসতে বাধ্য হয়।”

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দেওয়া বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এনসিটি বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিকে পরিচালনার সুযোগ না দিলে আবুধাবিতে কর্মরত ২৩ লাখ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কার কথা বলেছেন। এই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া, এনসিটির যন্ত্রপাতি পুরোনো বা অকেজো এবং যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের নিচে নেমে ৭০%-এ পৌঁছেছে-বন্দর চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে পরিষদ। তাদের দাবি, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র, ক্রেন কেনার তথ্য এবং সামুদ্রিক লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ার দাবি সঠিক নয়। বরং এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়বক ইব্রাহিম বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে যে প্রতিষ্ঠান সমীক্ষা চালিয়েছে, তাদের ৭৫% জনবল ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তি হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এনসিটি থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে চলে যাবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে পাশাপাশি বন্দরের বর্তমান কর্মচারীরা চাকরি হারাতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।