Thursday, September 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ

এসব কারাগরে বন্দি ধারণক্ষমতা ৭,৮৫০ হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ১৯,৯৬৬ জন

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি থাকায় চরম চাপের মধ্যে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এসব কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৭,৮৫০ জন হলেও বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ১৯,৯৬৬ জন।

অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিকে পৃথক রাখার ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন অপরাধে আটক বন্দিদের অনেক ক্ষেত্রেই একইসঙ্গে রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে গিয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১২টি কারাগারে পুরুষ বন্দির ধারণক্ষমতা ৭,৪৭৯ জন এবং নারী বন্দির ধারণক্ষমতা ৪১৩ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে পুরুষ বন্দি রয়েছেন ১৯,২২২ জন এবং নারী বন্দি ৭৪৪ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় পুরুষ বন্দি প্রায় আড়াই গুণ এবং নারী বন্দিও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি।

কারাগার সূত্র জানায়, ২,২৪৯ জনের ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৬,৯০৩ জন। এর মধ্যে মাদক মামলার আসামি ৯০৯ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ২২৬ জন। এর মধ্যে নারী ১৬ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৪৯৫ জন এবং নারী ২২ জন। পুরুষ হাজতি ৫,৪৯১ জন এবং নারী ১৬৯ জন। পুরুষ কয়েদি ৪৯৫ জন এবং নারী ২৩ জন।  বিদেশি বন্দি ৭৬ জন।

১,৭৪২ জনের ধারণক্ষমতার কুমিল্লা কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৩,১৮০ জন। এর মধ্যে হাজতি পুরুষ ২,১২৭ জন এবং নারী ১০৬ জন। পুরুষ কয়েদি ৭১৩ জন এবং নারী ১৬ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ৩ জন পুরুষ। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ১৯৮ জন এবং নারী ১৫ জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৩৩ জন।

৮৩০ জনের ধারণক্ষমতার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি আছেন ২,৮৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি দুই হাজার ৭৪১ জন এবং নারী ১৪৪ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ২৮৪ জন এবং নারী ৭ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন চারজন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ১৬২ জন এবং নারী ৪ জন। বন্দির মধ্যে ৮৮৪ জন মাদক মামলার আসামি।

৭৮০ জনের ধারণক্ষমতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে বন্দি আছেন ২,১৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি এক হাজার ৫১৫ জন এবং নারী ৩১ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ৫৩১ জন এবং নারী ৫৬ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুইজন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৩৮ জন এবং নারী ৫ জন। মাদক মামলার আসামি আছেন ৬৮০ জন। বিদেশি বন্দি ১ জন।

৫০০ জনের ধারণক্ষমতার নোয়াখালী কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ১,০৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮৬৪ জন এবং নারী ২৯ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ১২৯ জন এবং নারী পাঁচ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ছয় জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৫৫ জন এবং নারী ২ জন।  মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২০১ জন।

৪৭৫ জন ধারণক্ষমতার চাঁদপুর কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ১,০৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৮০১ জন এবং নারী ২৮ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ২০৭ জন এবং নারী ৪ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন একজন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৪০ জন এবং নারী ৪ জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৪৪৬ জন।

৫৬৪ জনের ধারণক্ষমতার ফেনী-১ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৫২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৯৫ জন এবং নারী ১৮ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ৫৯ জন এবং নারী চার জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ২৮ জন এবং নারী ৩ জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১৩ জন। বিদেশি বন্দি ৩ জন।

৭২ জনের ধারণক্ষমতার ফেনী-২ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছেন ৪৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ১৭০ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ২৮১ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১২ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ১৩ জন।

২৯৫ জনের ধারণক্ষমতার লক্ষ্মীপুর কারাগারে বন্দি আছেন ৬৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৪৪৯ জন এবং নারী ৯ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ১৫৩ জন এবং নারী চার জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন দুই জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৪৬ জন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৬৩ জন।

১৪৮ জনের ধারণক্ষমতার রাঙ্গামাটি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১১ জন এবং নারী ৫ জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ৪৬ জন এবং নারী দুই জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ৫ জন।  মাদক মামলায় বন্দি আছেন ১০৮ জন। বিদেশি বন্দি ২ জন।

১১৪ জনের ধারণক্ষমতার বান্দরবান কারাগারে বন্দি আছেন ৪৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ৩৪৬ জন এবং নারী আট জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ৬২ জন এবং নারী ৩ জন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছেন পুরুষ ১৮জন এবং নারী একজন। মাদক মামলায় বন্দি আছেন ৮৪ জন। বিদেশি বন্দি ৪৫ জন।

৮১ জনের ধারণক্ষমতার খাগড়াছড়ি কারাগারে বন্দি আছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২১৮ জন এবং নারী দুই জন। পুরুষ কয়েদি আছেন ৪৪ জন এবং নারী একজন। । মাদক মামলায় বন্দি আছেন ২১ জন।

কারাগার সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দিকে ৩৬ বর্গফুটের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কথা। অথচ চট্টগ্রামের ১২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় এই সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না। একজনের স্থলে দুই-তিন জন করে রাখতে হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, “কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা তাকে দিতে হবে। কারাগারে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি অপরাধী, এমন মনে করার সুযোগ নেই। অনেকেই মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বিচারাধীন বন্দিদেরও মানবিক মর্যাদা ও কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “আধুনিক সমাজে কারাগারগুলো সংশোধনাগার হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।”

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২০ হাজার। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি কারাগারে বন্দির সংখ্যা কিছুটা বেশি। চট্টগ্রামে নতুন একটি কারাগারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বেশি বন্দির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x