রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যায় পৃথক তিনটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের সামনে শিকড় পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
একই সময়ে মিরপুর-১ নম্বরের আনসার ক্যাম্প এলাকায় অভিজাত পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহায়তায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয় এবং এতেও কেউ হতাহত হননি।
এ ছাড়া রাত আটটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় একটি গাড়ির গ্যারেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাসের পেছনের দিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়, তবে আশপাশের লোকজন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে রাজধানীর একাধিক স্থানে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, মহাখালী এলাকায়, বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে এবং কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক বক্সের সামনে আরও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। রাতে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে এবং নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ধারাবাহিক এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।