খুলনায় মেসে মিল না দিয়ে কাউকে না জানিয়ে ভাত খাওয়া ও টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা চার আসামিই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওসি বলেন, "ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি বলেন, "তাদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়ে তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন।" শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চারতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং পরে চুরির অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে আজমুলের মাথার চুল কেটে দেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদ গলির একটি মেসে ভাড়া থাকতেন তিনি।
এদিকে আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।