মৌলভীবাজারে বাড়ছে হাম রোগী: শয্যাসংকটে হাসপাতাল

মৌলভীবাজারে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের রোগীর সংখ্যা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবও। ফলে জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। 

বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলায় ১,৮৩২ জন হাম উপসর্গের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৫ শিশু। সদর হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন; যার মধ্যে ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকিরা শিশুরা। 

এছাড়া হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৫৬ জন, শিশু স্কেনো ওয়ার্ডে ২১ জন, মেডিসিন ওয়ার্ডে ৮৯ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৯ জন এবং ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

অন্যদিকে, প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আর পুরো জেলায় ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন। 

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ জানান, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিনই শত শত নতুন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। 

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানান, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলায় শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের হাম ক্যাম্পেইনে ২১ হাজার ৩৪৪ জন শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হবে। 

হামের প্রাদুর্ভাব ও রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে না কমা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।