পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাইবার অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এ লক্ষ্যে চীনের সাইবার ল্যাব ও অবকাঠামো পরিদর্শনের জন্য পুলিশের একটি ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল বেইজিং পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত আগামী অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন। এ সময় তিনি চীনের ‘মিনিস্টার অব পাবলিক সিকিউরিটি’-এর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং চীন সফরের আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে সাইবার ক্রাইম, পাবলিক সিকিউরিটি ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের এক শয়েরও বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি বিশেষায়িত ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ ও তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
সাইবার অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তার অংশ হিসেবে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীনে পাঠাবে বাংলাদেশ। দলটি চীনের আধুনিক ল্যাব পর্যবেক্ষণ করে দেশে সরঞ্জামাদি প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রস্তুত করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “চীন কেবল আমাদের শীর্ষ বিনিয়োগকারীই নয়, আমাদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার।” বাংলাদেশে অবস্থানরত সব চীনা নাগরিক ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে পুনরুল্লেখ করেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।