দূষণ আর তেলের আস্তরণে ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর কালচে পানিতে এখনও টিকে আছে ২০টি গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন বা শুশুক। প্রাণ বাঁচাতে এই বিপন্ন প্রাণীগুলো বদলে ফেলেছে তাদের চিরচেনা জীবনধারা আচরণ, খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে টিকে থাকার কৌশল, সবকিছুতেই এসেছে পরিবর্তন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজের নেতৃত্বে পরিচালিত ১২ মাসব্যাপী (সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৪) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য।
গবেষণা অনুযায়ী, আগে একাকী চলাচল করা এই ডলফিনগুলো এখন বেঁচে থাকার তাগিদে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করছে। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় তারা এখন খাচ্ছে “সাকার ফিশ”, যা আগে তাদের স্বাভাবিক খাদ্যতালিকায় ছিল না।
শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার পানি কমে গেলে এবং বর্জ্যের ঘনত্ব বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গেলে ডলফিনগুলো উজানের বিপরীত পথ ধরে সরে যায় ধলেশ্বরী নদীর দিকে টিকে থাকার আরেকটি কৌশল হিসেবে।
গাঙ্গেয় ডলফিন প্রায় দৃষ্টিহীন প্রজাতি হওয়ায় শিকারের জন্য তারা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল শব্দের প্রতিধ্বনির (ইকোলোকেশন) ওপর। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় চলাচলকারী ৬০০ এরও বেশি ভারী নৌযানের সৃষ্ট শব্দদূষণে ব্যাহত হচ্ছে তাদের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, ফলে শিকার ধরতে চরম সমস্যায় পড়ছে বিপন্ন এই জলজ প্রাণীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনগুলো একদিকে যেমন প্রাণীটির অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ, তেমনি অন্যদিকে বুড়িগঙ্গার ক্রমবর্ধমান দূষণ ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভয়াবহ অবনতিরও একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।