পুলিশের হাত থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালালো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বৈদ্যরবাজার খেয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে আসামির সহযোগীরা। এ ঘটনায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, তাদের ওপর কেউ হামলা করেনি এবং আহত হয়নি।

পালিয়ে যাওয়া আসামি হলেন- কুমিল্লার মেঘনা থানা রিপন মিয়া (৩৫)। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসমত উল্লাহর একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। 

তবে  অভিযানের সময়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। এতে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের দুজন কর্মকর্তা আহত হলে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নেন।
 
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা.মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত বলেন, “বিকেলে দুজন পুলিশ সদস্য আমাদের এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসমত উল্লাহ। খুব সম্ভবত তারা ধস্তাধস্তির মতো ঘটনায় আহত হয়েছেন।” 

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামান বলেন,“আমিসহ তিনজন পুলিশ সদস্য খেয়াঘাট এলাকায় দ্রুত বিচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলাম। এসময় আসামি আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে আমাদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।”

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সে নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে পুলিশের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।”

পুলিশ কর্মকর্তাদের আহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে- তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই।”

নারায়ণগঞ্জর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেঘনা থানার দ্রুত বিচার আইনের মামলায় একটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সোনারগাঁ থানার পুলিশকে ধরিয়ে দিতে নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় তার নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ পুলিশের ওপর হামলা করেনি এবং পুলিশের কেউ আহত হয়নি।”