স্ত্রী রেহানা পারভীনের সন্দেহজনক মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশে চলমান তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর অভিযোগে আওলাদ হোসেন (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। বিদেশের সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার এই অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি।
গত বছরের এপ্রিলে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের জননী রেহানা পারভীনের সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্ত করছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও কোনো দেশেই এখনো তার বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যা মামলা দায়ের হয়নি।
বর্তমানে ব্রিসবেনে হেফাজতে থাকা আওলাদ হোসেনের মামলার শুনানি আজ সকালে স্থগিত হয়েছে; আগামীকাল তিনি জামিনের আবেদন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেহানার মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে এএফপি ও বাংলাদেশ পুলিশ দুই দেশেই পৃথকভাবে তদন্ত চলছে।
এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জয় জানান, বাংলাদেশের তদন্তকে প্রভাবিত করতে গত দুই বছরে আওলাদ হোসেন সেখানে পরিচিতজনদের কাছে একাধিক দফায় ৯০ হাজার ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে এই অর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে বা তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলেছে এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতার মাত্রায় কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি এবং তাদের সহযোগিতায় তারা সন্তুষ্ট।
কমান্ডার জয় জানান, রেহানার মৃত্যুর তদন্তের অংশ হিসেবেই ঘুষের অভিযোগগুলো সামনে এসেছে এবং তদন্ত এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে।
মঙ্গলবার এএফপি কর্মকর্তারা আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইনসে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেন। এছাড়া সিডনি ও ব্রিসবেনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে আন্তর্জাতিক ফান্ড ট্রান্সফার ও ব্যাংক রেকর্ড সংক্রান্ত নথিও জব্দ করা হয়েছে।
আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তরিক ডিব জানান, তার মক্কেল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, প্রসিকিউশনের মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এএফপির আদালতে মামলা দায়েরের ঘটনা এটিই প্রথম। কমান্ডার জয় সতর্ক করে বলেন, “এ ধরনের প্রমাণ পেলে যে কারও বিরুদ্ধে তদন্ত, বিচার ও দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে।“
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এসব অভিযোগ সম্পর্কে তারা কোনো অফিসিয়াল প্রতিবেদন পাননি, তবে তদন্তে অস্ট্রেলীয় পুলিশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।