আজমুল হত্যায় চতুর্থ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতনের পর চুরি করে ভাত খাওয়া, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগ স্বীকারে বাধ্য করা হয়েছিল।  

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর হত্যা মামলার অপর আসামি শেখ আসিফ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা গেছে বেশকিছু নতুন তথ্য।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি, আগের র‌্যাব) জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য স্বীকার করেছে আসিফ। 

গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসআরবি-৬ এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আসিফ জানায়, কয়েকজন জোর করে আজমুলের কাছ থেকে আদায় করা স্বীকারোক্তি ভিডিও ধারণ করেন। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তখন আজমুল চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয় তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পা পিছলে নিচে পড়ে যায় আজমুল।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিন্তার আহমেদ জানান, আজমুল হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া থেকে। 
আসিফ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। 

এসআরবি অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসিফকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আজমুলের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আসিফ এসআরবিকে জানায়, একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং ২০ সেপ্টেম্বর তার যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আজমুলের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

আসিফের বর্ণনামতে ঘটনা হলো, গত শুক্রবার রাতে তিনি তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে ওই ভবনে যান। আজমুলকে রুমে রেখে মারধরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তাকে দিয়ে চুরি করে ভাত খাওয়া, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়। 

এসময় উপস্থিত কয়েকজন আজমুলের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করছিল। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় ভয়ে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয় তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সেখানে পা পিছলে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর আজমুল মারা যায়।

আসিফের বর্ণনা আরও জানা গেছে, মেস ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব হাসনাত রিফাতের এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তাদের মধ্যে আজমুলকে নির্যাতনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রিফাতের। তবে আজমুলকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না। 
এছাড়া খাজা হলের সামনে থাকা “মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নার” -এর কর্ণধার তারেক ওরফে রুবেল নিজেও আজমুলকে বেশ মারধর করেছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ঘটনার পর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। 

এদের মধ্যে ৩ জনই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং একজন জুস বিক্রেতা। এরই মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর রিফাত ও ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতাপ ও রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

২৪ সেপ্টেম্বর আসিফকে আদালতে হাজির করা হবে। 

উল্লেখ, ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে ভাত চুরির অভিযোগে আজমুলকে মারধর করা হয়। পরে তিনি ভবন থেকে পড়ে মারা যান। 

স্বজনদের অভিযোগ, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ ও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।