নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হাসান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ নিয়ে আজমুল হত্যা মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাবেক শিক্ষার্থীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া এলাকা থেকে এসআরবি-৬, খুলনার স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে শেখ আসিফ হাসানকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আজমুল হত্যা মামলায় আসিফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মতি দেন। পরে আদালত তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, আসিফ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ডিসিপ্লিনের ১৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮ এর যৌথ অভিযানিক দল। রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ব্যাচের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের সাবেক শিক্ষার্থী।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রিফাত ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের গেটের সামনে থেকে তারেক হোসেন রুবেলকে আটক করে এসআরবি-৬। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সামনে জুস বিক্রি করতেন। একই দিন বরিশালের উজিরপুর এলাকা থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী প্রতাপ সরকারকে আটক করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, রুবেল ও প্রতাপও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসছে। মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ঘটনাটি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।“
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে নির্যাতন করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আজমুল চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। তবে তিনি নিজে পড়ে গেছেন, নাকি তাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছ এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পরে আজমুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।