নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এতে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ট্রেন চলাচল প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনের সামনে রেললাইনে মানববন্ধন ও অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুবেল ইসলাম বাবু এ তথ্য জানান।
অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে এবং খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা ট্রেনটি ডোমার স্টেশনে আটকে থাকে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রহমত আলী বলেন, “আমরা এই এলাকার মানুষ ছাড়া আশপাশের পাঁচ ছয়টি ইউনিয়নের সাধারণ যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করি। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল নিয়ে যান। তাই আমাদের প্রধান দাবি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামাতে হবে। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায় নিচ থেকে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারীসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।”
জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের বাবা-চাচাদের কাছে শুনেছি, একসময় এ স্টেশনে তিন-চারটি ট্রেন থামতো। তারা এসব ট্রেনে করে যাতায়াত করতেন। সকালে একটি ও বিকেলে একটি ট্রেন থামত। আমরা এখনো সেই সুবিধা ফিরে পাওয়ার দাবি জানাই। তিতুমীর, বরেন্দ্র ও রূপসা ট্রেনকে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামাতে হবে।”
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকাগামী চিলাহাটি ও নীলসাগর, রাজশাহীগামী তিতুমীর ও বরেন্দ্র এবং খুলনাগামী রূপসা, সীমান্ত ও রকেট মেইল ট্রেনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রাবিরতি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুবেল ইসলাম বাবু বলেন, “মানববন্ধনের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রূপসা ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ডোমার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি চিলাহাটিতে অবস্থান করছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”