মোহাম্মদপুরে বাড়ি ও জমি দখলের চেষ্টার পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বাড়িতে হামলা এবং চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের চেষ্টার পৃথক ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো দুটি পৃথক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, আদাবর থানার শ্যামলী হাউজিংয়ের বাড়ি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগে পাঁচজনকে এবং মোহাম্মদপুর থানার চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের চেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জনের একদল লোক রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্যামলী হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কের ৪১ ও ৪২ নম্বর প্লটে অবস্থিত ওই বহুতল ভবনে হামলা চালায়। এর আগে প্রায় দেড় বছর ধরে এই একই গ্রুপ ভবনটি দখল করে রেখেছিল। গত মার্চ মাসে পুলিশ ওই গ্রুপের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এবং মালিককে ভবনের দখল বুঝিয়ে দিয়েছিল।

হামলার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের ভেতরের লোকজন গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশধারী কয়েকজন রামদা ও ইট দিয়ে মূল ফটক এবং জানালায় ভাঙচুর চালায়।

পরে এ ঘটনায় খুরশিদ আলম খানসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আদাবর থানায় মামলা করেন বাড়ির মালিক।

আদাবরে শ্যামলী হাউজিংয়ের বাড়িতে ভাঙচুর

অন্যদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ সংলগ্ন একটি প্লটে থাকা অফিসে ঢুকে কয়েক শ লোক ভাঙচুর, নগদ টাকা ও যন্ত্রপাতি লুট করার পর জায়গাটি টিন দিয়ে ঘিরে ফেলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ভিডিওতে একদল মানুষকে ওই অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। পরে সেখানকার বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।

এ ঘটনায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন হামলার শিকার অফিসের কর্মী আনোয়ার হোসেন রিপন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সি লিমন এবং বাঁশবাড়ি এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সি মনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে।

জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির জেরে এই ঘটনা ঘটে।