গাজীপুরের শ্রীপুরে কুয়েত প্রবাসী আমিনুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ডাকাতরা বাড়ির নারী সদস্য ও শিশুর গলায় দা ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান কাপড়সহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতেরা প্রবাসীর শ্বাশুড়িকে দা দিয়ে আঘাত করে জখম করে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামের (ফকির পাড়া) পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
আমিনুল ইসলাম ওই গ্রামের সানাউল্লাহ মৃধার ছেলে। তিনি প্রায় আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কুয়েত প্রবাসী। তার বাড়িতে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার, চার বছরের শিশু কন্যা মারিয়া আক্তার এবং শ্বাশুড়ি পারভীন আক্তার বসবাস করেন।
পারভীন আক্তার জানান, রাত ৩টার দিকে ৭-৮ জনের একদল ডাকাত বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে ৫ জন ডাকাত বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ডাইনিং রুম দিয়ে বেড রুমে প্রবেশ করে। এরপর কালো মুখোশ পরিহিত ৫ জন আমার নাতি ও আমার গলায় দা ধরে জিম্মি করে। তারা আমার মেয়েকে ওয়ারড্রব ও কেবিনেটের চাবি দিতে বলে। এ সময় ভয়ে মেয়ে ফাতেমা আক্তার আমাকে জড়িয়ে ধরলে ডাকাতরা নাতিকে জবাই করার হুমকি দেয়। দায়ের কোপ দিয়ে আমার ডান পায়ের আংগুলে এবং হাতের বাহুতে আঘাত করে মারাত্নক জখম করে।
তিনি আরও জানান, পরে চাবি দিলে ডাকাতেরা নগদ ৪২ হাজার টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মেয়ের বিয়ের মূল্যবান শাড়ি ও জামাসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতরা ঘরে প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে। যাওয়ার সময় বলে, আমরা আশেপাশেই আছি। চিৎকার করলে আবার এসে শিশুকে জবাই করার হুমকি দেয়।
শ্রীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পর বলা যাবে এটা চুরি না ডাকাতি।