শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে সুরেশ্বর বাজার ও লঞ্চঘাট

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ফাটল ধরে একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে অন্তত ১৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার দুপুর থেকে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। পদ্মার প্রবল স্রোতে ফাটল ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলে ঘাটের দোকানপাট ঝুঁকিতে পড়ে। অনেকে আগেভাগেই মালামাল সরিয়ে নেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফাটল ধরা অংশের প্রায় ৩০ মিটার বিকট শব্দে নদীতে ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, যেকোনো সময় সুরেশ্বর মাছের আড়ত, বাজার, লঞ্চঘাট, আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

ব্যবসায়ী রুবেল খান বলেন, "বাঁধের এই অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"

দুই দিন আগে ফাটল ধরার পর থেকেই আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ী মামুন বেপারী। তিনি বলেন, "এখন যেভাবে মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে। এতে আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।"

স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস বেপারী ও মিজানুর রহমানের দাবি, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। তাদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ বিলীন হয়ে যেতে পারে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, "ফাটল ধরা বাঁধের ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।"

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে নড়িয়া ও জাজিরার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙন থেকে রক্ষায় এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।