রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম নিহতের মামলায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন চেয়ে আদালতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন তার আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। তার দাবি, দুর্ঘটনার সময় কিশোরটি গাড়ি চালাচ্ছিল না; মূল চালক বাঁ পাশ দিয়ে বের হয়ে যান। তাই কিশোরকে নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করেন তিনি।
শুনানিতে গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এ মামলায় সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে নিহতের পরিবারকে এরই মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত এবং জামিনে তাদের আপত্তি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় নিহতের বাবা ও ভাই এজলাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
আদালত জানতে চান, কিশোরটি কতদিন ধরে হাজতে রয়েছে। জবাবে তার আইনজীবী জানান, রবিবার পর্যন্ত ১২ দিন ধরে সে হাজতে রয়েছে।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান বিচারক। পাবলিক প্রসিকিউটর জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ঘটনাটি গুরুতর। অভিযুক্ত কিশোরের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং তার গাড়ি চালানোর অনুমতিও ছিল না। তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত নয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গুলশান থানার আওতাধীন বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেলে সেখানে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর নির্দেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন তার জামিনের আবেদন করা হলে আদালত আংশিক শুনানি শেষে রবিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। এজাহারে কিশোরের নাম উল্লেখ না করে আকাশ মারাক (৪৪) নামে একজনকে গাড়িচালক হিসেবে আসামি করা হয়। তবে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।