খুলনা নগর ও জেলায় ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক গুলির ঘটনা ঘটেছে। দিঘলিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা নাসিম (৪৫) নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি লবণচরায় পারিবারিক কলহের জেরে বিএনপি নেতা ইকবাল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে দিঘলিয়ায় ও লবণচরায় গুলির ঘটনা ঘটে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়ায় বাড়ির সামনে চা খেতে বেরিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মো. নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম (৪৫)। ফরমাইশখানা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাসিম বাড়ির সামনে চা খেতে বের হন। এ সময় একটি ভ্যানে করে দুই ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা নাসিমকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জানান, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা এবং তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
দিঘলিয়া থানার ওসি আরও বলেন, নাসিম পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। তার নামে ৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি হত্যা মামলা। মামলাগুলো পুরনো। সবগুলোতেই নাসিম জামিনে ছিলেন।
এদিকে, লবণচরায় গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিএনপি নেতা ইকবাল মোল্লা আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, মেয়েকে তালাক দেওয়া নিয়ে পারিবারিক কলহের ধারাবাহিকতায় এ গুলির ঘটনা ঘটে। গুলি ইকবালের পায়ে লাগে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। ইকবাল ও তার মেয়ের সাবেক স্বামীর পরিবার প্রতিবেশী। ঘটনার পর সাবেক জামাইসহ পরিবার ও সহযোগিরা গা ঢাকা দিয়েছে।
খুলনা নগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, “ইকবাল ৩১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক। মেয়ের তালাক বিষয় নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে।”