ভ্যানচালক বাবার মেয়ে আফসানা মিমের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরের পর নাটোর সদর উপজেলার সবুজ মণ্ডলের ছেলে কাউছার মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের এই তরুণীর। বিয়ের পুরো দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন রুবেল।
গত ২৪ বছর ধরে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আসছেন রুবেল। জন্মদাতা না হয়েও এ পর্যন্ত ১১৩ জন অসহায়, হতদরিদ্র ও এতিম মেয়ের অভিভাবক হয়েছেন তিনি। আফসানা মিম তার সহযোগিতায় বিয়ে হওয়া ১১৩তম মেয়ে।
২০ বছর বয়সী আফসানার বাবা আফছার আলী পেশায় ভ্যানচালক। সীমিত আয়ে সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। তাই মেয়ের বিয়ের ইচ্ছা থাকলেও খরচ জোগাড় করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দুশ্চিন্তায় থাকা আফছার এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে রুবেলের উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। যোগাযোগের পর বিয়ের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন রুবেল। গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন তিনিই করেন।
আবেগাপ্লুত আফছার আলী বলেন, “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। মেয়ের বিয়ের খরচ কীভাবে জোগাড় করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রুবেল ভাই পাশে দাঁড়ানোয় আমার অনেক বড় চিন্তা দূর হয়েছে। তার সহযোগিতা না পেলে এত সুন্দরভাবে বিয়ের আয়োজন করা আমার পক্ষে কঠিন হতো।”
কনে আফসানা মিম বলেন, “এমন সুন্দর আয়োজন হবে, ভাবিনি। রুবেল ভাইয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সবাই আমাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করবেন।”
বর কাউছার মণ্ডল বলেন, “আয়োজন দেখে আমরা খুবই আনন্দিত ও বিস্মিত। একজন মানুষ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এত বড় দায়িত্ব নিয়েছেন, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। সবার দোয়া নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে চাই।”
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বাসিন্দারা রুবেলের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সামর্থ্যবানদের নৈতিক দায়িত্ব। অভাবের কারণে যাতে কোনো পরিবারের আনন্দ ম্লান না হয়, সে জন্য রুবেলের মতো আরও মানুষের এগিয়ে আসা দরকার বলে তারা মনে করেন।
রুহুল আমিন রুবেল বলেন, “এর পেছনে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। পরকালের কথা চিন্তা করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে ভালো লাগে। দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রকৃত অসহায় পরিবারের খোঁজ পেলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
রুবেলের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু কয়েকটি পরিবারের আর্থিক সংকটই লাঘব করছে না, ছড়িয়ে দিচ্ছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তাও।