পদত্যাগ করছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ার পর এবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত জানান অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, “আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।”

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার বিকেলে, যখন নিজ নির্বাচনী এলাকা গেন্ডারিয়ায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। প্রচারিত ভিডিওগুলোর একটিতে দেখা যায়, তিনি নিজে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র নিয়ে এমন অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আপনারা যেটা দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। স্থানীয় ডিসিকে বলা হয়েছে, তিনি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ডিএমপি অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। খবরটি দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন আরও লেখেন, “ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।”

ভবিষ্যৎ পথচলা ও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির এই আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য লেখেন, “এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল!”