প্রধানমন্ত্রী: সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে চেয়েছিল দেশের মানুষ তাদের কর্মকাণ্ড ভালোভাবে নেয় নাই। এখন তারা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংসদে আসুন, কথা বলুন। আমরা আপনাদের কথা শুনতে চাই। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো মত আমরা গ্রহণ করতে রাজি আছি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলকায় অবস্থিত ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন উপলক্ষে সনাতন সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এ জন্য দেশের জনগণকে আমি আরও কাছে পেতে চাই, তাদের সহযোগিতা চাই। আমরা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি আরও ভালো করতে কাজ করছি।

তরেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। সেই যুদ্ধে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সকলে অংশ নিয়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। মাত্র দুই বছর আগে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয় সে সময়ে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আমরা স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছিলাম। এখন আমরা আগামীর বাংলাদেশকে শান্তির বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী/পিএমও

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে আমরা জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। আমরা হয়তো কোনো অঞ্চলে জয়ী হয়েছি, কোনো অঞ্চলে জয়ী হতে পারিনি। আমরা মনে করি দেশের সকল মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছে, ভোট দিয়েছে। সে কারণে আমরা দেশের সকল অঞ্চলে সমভাবে উন্নয়ন করতে চাই। রংপুর মহানগরীর উন্নয়নের জন্য আমরা একনেকের সভা করে ১৮শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। এ ছাড়াও রংপুর জেলা উপজেলার অবকাঠামো এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছি।

এর আগে, দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাধাগোবিন্দ মন্দিরে আসেন। এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দন থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্দিরের উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন। এ ছাড়াও মন্দিরের গরীব মেধাবী সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য ৬ তলা ভবন নির্মাণ কাজে সহায়তার অশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সংস্কৃতিক মন্ত্রী নিতাই রায় চেধৈুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর সাহেব আলী প্রমুখ।