সৌদিতে নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতির হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২২ মিনিটে মরদেহ বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে নিহতের স্বজনদের কাছে শাহেদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সরেজমিনে উপস্থিত থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রিয়াদের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাহেদের মরদেহ নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মরদেহ হস্তান্তরকালে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে লাশ দাফন ও যাতায়াত খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং হামলায় মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকার চেক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া, নিহতের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘সা’দ আল ঈসা কনট্রাক্টিং কোম্পানি’ থেকে শাহেদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট বাবদ প্রাপ্ত ২৭ হাজার ৩৯৫ সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকা) রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। শিগগিরই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে এই অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। নিহত শাহেদের বিএমইটি কার্ড ও বীমা কাভারেজ থাকা সাপেক্ষে তার পরিবার পরবর্তীতে আরও ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৩টায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী একটি বিধ্বংসী হামলা চালায়। ওই হামলায় শাহেদসহ ২ জন বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের আরও ১১ জন নাগরিক প্রাণ হারান।

নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। ওই একই হামলায় নিহত অপর বাংলাদেশি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের ওমরাহ ভিসাধারী নাসরুল্লাহ বদরপুরী, যিনি ট্রানজিটে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।