গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এসআইসহ নিহত ২

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের নিয়মিত টহলের সময় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক এসআই ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের তুমলিয়া এলাকায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে দুর্ঘটনা ঘটে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।

নিহত এসআইয়ের নাম মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। নিহত পথচারী রফিক ইসলাম (৪৫) কালীগঞ্জের তুমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ওয়াজ উদ্দিন মোল্লা।

আহত অপর পুলিশ সদস্য হলেন এসআই জাবেদ ওমর (২৮) ও কনস্টেবল রাব্বি (২৮)। রাব্বি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, ওই রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার তুমলিয়া এলাকায় কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে সড়কে টহল দিচ্ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের কয়েকজন সদস্য। এ সময় তারা সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন।

এ সময় ঘোড়াশালগামী দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। কাভার্ড ভ্যানটি এসআই মিজানুর রহমানকে প্রায় ২০০ মিটার টেনে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাকী তিনজন গুরুতর আহত হন।

পরে এক পথচারী ও এক রিকশাচালক তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফা আল হোসাইন রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পিএসআই জাবেদ ওমর বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্ত এবং এর চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।