দেওয়ালে সাজানো আগ্নেয়াস্ত্র, মেঝেতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হতো এসব অস্ত্র তৈরির ভিডিও, চলত বিক্রির প্রচারণাও। এরপর শুরু হতো ক্রেতার খোঁজ। তথ্য আদান-প্রদান ও দরদামের যাবতীয় কাজ চালানো হতো ‘বন্দুক’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব সূত্র ধরে কুমিল্লার লালমাইয়ে অভিযান চালিয়েছে এসআরবি-কুমিল্লা। অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ইছাপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে চক্রের মূলহোতা আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযান শেষে এসআরবি-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, বিভিন্ন তথ্য ও আলামত পর্যালোচনা করে বোঝা গেছে, অস্ত্রের প্রতি ওই ব্যক্তির একধরনের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অস্ত্র বেচাকেনার বিষয়ে যোগাযোগ করতেন।
এসআরবির অনুসন্ধানে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া কারখানায় তৈরি করা এসব অস্ত্র কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের হাতে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লালমাই ইছাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় আমাদের গ্রামেরও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি মনে করি, অন্যরা যেন এ ঘটনা দেখে সচেতন হন এবং কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে মানুষ মুক্তি পায়।”
আটক আসিফের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে এসআরবি।