গভীর নলকূপ খুঁড়তে গিয়ে বের হওয়া গ্যাস থেকে আগুন, নেভানো যায়নি ৬ ঘণ্টায়ও

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী ইউনিয়নে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের নির্গমন ঘটার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে ইউনিয়নের ছোট খাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির জন্য গভীর নলকূপ খননের কাজ চলছিল। একপর্যায়ে মাটির গভীর থেকে প্রচণ্ড চাপ নিয়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর মুহূর্তেই আগুনের শিখা কয়েক ফুট উঁচু হয়ে জ্বলতে থাকে। দূর থেকেও আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের চারপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, “গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাস বের হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। গ্যাসের উৎস বন্ধ না হওয়ায় আগুন নেভাতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

উখিয়া উপজেলা সহকারী ভুমি কমিশনার আবু আবদুল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আছি এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। পরে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবো।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল আলম বলেন, "ফায়ার সার্ভিস সকাল থেকেই কাজ করছে। কিন্তু গ্যাস বের হওয়া বন্ধ না হওয়ায় আগুনও নেভানো যাচ্ছে না। নিরাপত্তার জন্য এলাকাবাসীকে দূরে রাখা প্রয়োজন।"

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা নুরুল হাকিম বলেন, "ভোরে বিকট শব্দের পর আগুনের শিখা দেখা যায়। এতো বড় আগুন এই এলাকায় আগে কখনো দেখিনি। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।"

স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা সাইফুল সিকদার বলেন, "আগুনের তাপ অনেক দূর পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত বিশেষজ্ঞদের এনে বিষয়টি সমাধান করা উচিত।"

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ভূগর্ভ থেকে কী ধরনের গ্যাস বের হচ্ছে এবং কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পেট্রোবাংলা কিংবা ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে, এ ঘটনায় দুপুর পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।