বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার দিন যার ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পিবিআইয়ের এই গণমাধ্যম কর্মকর্তা বলেন, “গতকাল রাতে দীপকে সেখানে নেওয়া হয়। দুজন একসঙ্গে ছিলেন। তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে দীপের দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে।”
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তার ছেলে। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের ফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানান তাহসিফ।
তবে বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান বাবা। ওই বার্তার পর থেকে তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে করে দেশত্যাগ করেন। এ ঘটনার যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ সাউরি ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়, ওই ভিডিও ধারণের কারণে বিমানবাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’
ওই পডকাস্টে তাকে আরও প্রশ্ন করা হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটির বিষয়ে বিমানবাহিনীর তদন্তে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। যাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে তাহসিফের নামও রয়েছে।
জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, “আমার দেশ” যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”
গত বছরের ৪ আগস্ট ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিবাদলিপি দেয়। এতে বলা হয়, ওই প্রতিবেদনে তাহসিফসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে তাদের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানায় আইএসপিআর।