খুলনায় তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে  

খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ন আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত হোসেনের সঙ্গে দেনা পাওনার বিরোধে এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়। 

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। কুপিয়ে আহত করার পর রক্তাক্ত দেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এর আগে, গত ৩১ অক্টোবর দিনগত রাতে মহানগরী লবণচরা থানাধীন কাশেমিয়া জামে মসজিদের অদুরে রাস্তার ওপর থেকে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতের পর শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। 

একের পর এক হত্যাকাণ্ডে পুরো খুলনাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিতে গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নগরবাসী। 

খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেল আহবায়ক মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘‘নিহত সৈয়দ হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক।’’ 

আড়ংঘাটা থানার ডিউটি অফিসার এসআই সুর্বণা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যহত রয়েছে। 

নিহতের ভাইপো সৈয়দ দিদারুল করিম বিপ্লব অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা আরাফাত হোসেনের সাথে দেনা পাওনার বিরোধ ছিল। তারই জের ধরে ওই নেতা সন্ধ্যায় কয়েকজনকে নিয়ে চাচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে আসে। এ সময় চাচা হুমায়ুন দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তারা এসে কথা বার্তার এক পর্যায়ে চাচাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় লোকজন এগিয়ে এলে চাচাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন হুমায়ুনকে নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। 

জানা গেছে, আড়ংঘাটা থানাধীন রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যান্টিনে’ অবস্থানকালে মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। নিহত হুমায়ুন কবির রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনের নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। 

আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হালিমুর রহমান বলেন, ‘‘ছাত্রদল নেতা আরাফাতের ফ্রিজের দোকান রয়েছে। আর নিহত তাঁতি দল নেতার পাসপোর্ট নিয়ে কাজ করার জন্য কম্পিউটার দোকান রয়েছে। হুমায়ুন নিজের জন্য আরাফাতের দোকান থেকে বাকিতে ফ্রিজ কিনেছিলেন। এই পাওনা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়েই কথা কাটাকাটির জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন হুমায়ুন।’’ 

পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে আর কোন কারণ আছে কি না তা তদন্ত করছে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান ওসি।