Sunday, November 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাভারে কারখানায় হামলা-ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ

এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন এক সাংবাদিক

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে একটি পোশাক কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা। পরে কারখানা-সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুর ও আশপাশের এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে হেমায়েতপুরে একেএইচ গ্রুপের একটি কারখানায় তখনো কাজ চলছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা বিভিন্ন কারখানার একদল শ্রমিক একেএইচ গ্রুপের ওই কারখানার সামনে উপস্থিত হন। তারা কারখানার শ্রমিকদের বের হয়ে আসতে বলেন। তবে শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় বিক্ষোভকারীরা কারখানা চত্বরে প্রবেশ করেন। 

পরে তারা কারখানার কাচ ও ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। এরপর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। 

একেএইচ গ্রুপের একটি কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘দুপুর আড়াইটার দিকে পাশের ছুটি ঘোষণা করা কারখানার ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক এসে তাদের কারখানার ফটক ভাঙচুর করে। পরে তাদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৫০০ থেকে ৬০০ জনে পৌঁছায়। তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে যেভাবে পেরেছেন, সেভাবেই ভাঙচুর করেছেন। স্টাফদের মধ্যে যাঁকে পেয়েছেন, তাকেই মারধর করেছেন।’’ 

এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। 

গোপাল মালাকার বলেন, ‘‘ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী কেন ভিডিও করছেন, তা জানতে চান। এরপরপরই তারা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।’’ 

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘দুপুরে শ্রমিকেরা হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে বলে, বেতন বৃদ্ধিসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপর বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।’’ 

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘‘বিভিন্ন জায়গায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। ভাংচুর করেছে। ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপি পরিদর্শন করে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী এ ঘটনায় আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব ঘটনায় বহিরাগত নাকি শ্রমিক কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে পারিনি। লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। ভাংচুর হয়েছে। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা করা। শ্রমিক, মালিক, সাধারণ মানুষ সবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’’ 

   

About

Popular Links

x