বান্দরবানে পদ্মমুখে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সুবিধা বঞ্চিত বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ খুম পাহাড় বেয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলছে তাদের যাতায়াত। সেতুর অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এসব জনপদের বাসিন্দারা। দুর্ভোগ নিরসনে সেখানে একটি টেকসই সাঁকো কিংবা স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তাদের।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার উহ্লামং মারমা বলেন, থানচি সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এই পদ্ম ঝিরি, এই পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অনেক পর্যটক চলাচল করেন। তারপরও নিরাপদে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরও জানা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির খুম বেয়ে চলাচলের নেই কোনো স্থায়ী সেতু বা অন্য কোনো ব্যবস্থা। ফলে দুটি মৌজার অন্তত ১৫টি গ্রামের মারমা, ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠীর ১,০০০ মানুষকে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় ভর করেই চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষায় ঝিরির পানির প্রবাহ বাড়লেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এসব জনপদগুলো।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্ম ঝিরির খুম বেয়ে চলাচলের পথটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী সাঁকো কিংবা সেতু। যুগের পর যুগ ধরে এটিই তাদের চলাচলে প্রধানপথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বাড়লে পারাপার হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা উজিরাম ত্রিপুরা, খুবাইতি ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেই পদ্মঝিরি খুমপথে চলাচলে করতে হয়। একদিকে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহন।

তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, “অর্থসংকটের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে টেকসই সাঁকো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের পথে স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, “পদ্ম ঝিরিতে খুমের একপাশে বেয়ে চলাচলের পথটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে স্থানীয়দের আবেদন করতে বলা হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামীতে বাজেটে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”