চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বর্ধিত মজুরি পাবেন শ্রমিকরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য গঠিত অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, ‘‘নতুন মজুরি ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর এবং জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকদের তা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধির সঙ্গে তাদের ঐকমত্য হয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকপক্ষের লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।’’
সভা থেকে তিনি সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি যৌক্তিক মজুরি প্রস্তাব তৈরি করে বোর্ডে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমান। সভা শেষে তিনি বলেন, ‘‘গত ১ নভেম্বর সরকার তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড গঠনের মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে।’’
আগামী সপ্তাহে বোর্ডের পরবর্তী সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণত শিল্প খাতের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় মাসের একটি সময়সীমা থাকে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ে বোর্ড গঠন করেছে।’’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রণয়ন ও তা জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।