চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমীর হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এদিকে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী চৌধুরী মো. গালিব রাগীব জামিন চাননি। তবে সুচিকিৎসা ও ডিভিশনের আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোলাগুলিতে চোখে গুলি লাগে লর্ড হ্যাডিক্ট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফের। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরিফের বাবা মো. ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম রয়েছে।
এর আগে, বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। সে সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ নিয়ে যায়।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও আছেন।
তাকে গ্রেপ্তারের পরপর ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের ডিসি আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটি খবর প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজিব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
রাতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম।