দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আবার পর্যটক এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দ্বীপের জেটিঘাটে নোঙর করে পর্যটকবাহী জাহাজ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অনেকেই ফুল দিয়ে পর্যটকদের শুভেচ্ছা জানান।
এদিন সকাল ৭টায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে ৮১০ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি বার আউলিয়া। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে জাহাজটি দ্বীপের জেটিঘাটে পৌঁছায়। জাহাজের দরজা খোলার পর সারিবদ্ধভাবে একে একে নেমে আসেন ৮ শতাধিক পর্যটক। পরে তারা জেটিঘাট হয়ে সেন্টমার্টিন পশ্চিমের বিচসহ বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্ট হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যান। পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেটিঘাট এলাকায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, “৯ মাস পর্যটক না আসায় দ্বীপবাসী চরম কষ্টে ছিলেন, যা অন্যদের বোঝানো কঠিন। পর্যটন ব্যবসাই দ্বীপবাসীর আয়ের মূল উৎস। পর্যটকদের সেবা দিয়ে ও তাদের সঙ্গে ব্যবসা করে আবার জীবিকা চলবে, এ আশায় তিনি দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানান।”
দ্বীপের বাসিন্দা জাবেদ ইকবাল জানান, পর্যটকরা জাহাজঘাটে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন, নানাভাবে সহায়তা করে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতনতামূলক বার্তাও দেওয়া হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, “পর্যটকদের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল, রিসোর্ট ও জাহাজ মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়েছে।”
যথাসময়ে পর্যটক আগমনের অনুমতি দেওয়ায় সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।