তিন মরদেহের খবরে টেকনাফের পাহাড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান, মিললো গুলি-এনআইডি

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবরে অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর পাহাড়ে চার ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। তবে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত আস্তানা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কিছু রান্নাবান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার ওই পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর ভিত্তিতে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে অভিযানে নামে যৌথবাহিনী। এতে বিজিবি, এসআরবি, এপিবিএন ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

অভিযানে থাকা হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, রঙ্গীখালী ও লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পেছনের গহিন পাহাড়ে তল্লাশি শুরু হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোঁজ করেও কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

মানবপাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে তারা দেখেছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পাচারকারী চক্রের তৎপরতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় মানবপাচারকারীদের গোপন বন্দিশালায় অভিযান চালিয়ে ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে যৌথবাহিনী। অভিযানের সময় সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা ও ৫০ জন বাংলাদেশি। পরিচয় যাচাই শেষে শুক্রবার রাতে থানা-পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরে টেকনাফের সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে পাচারকারী চক্র নানা প্রলোভনে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার করছে। চক্রটি দুর্গম পাহাড়ে গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা বানিয়ে ফাঁদে পড়া মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার ও চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও এই তৎপরতা থামানো যাচ্ছে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সাগর শান্ত হলে মাছ ধরার ট্রলারে করে পাচারের ঘটনা ঘটে।