নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে প্রায় ৫০% ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ।
রবিবার (১৬ জানুয়ারি) নাসিকের ভোটগ্রহণ শেষে সচিব বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে মহড়া ভোটের সময় নারীরা কম এসেছেন। তাই ভোটের দিন নারীদের ভোট পদ্ধতি বুঝিয়ে দিতে সময় লেগেছে। তবে যারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন, সবাই ভোট দিয়েছেন। কমিশনের কেউ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেননি। কোনো অভিযোগও আসেনি।”
ভোটগ্রহণের দিন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। তরুণ থেকে অশীতিপর বৃদ্ধও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিতে আগ্রহ নিয়েই ভোটকেন্দ্র এসেছেন। তবে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক ভোটারদের ইভিএমে ভোট দিতে অসুবিধায় পড়তে দেখা গেছে।
নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নৌকা প্রতীকের সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার কেউই বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ করেননি। এক পর্যায়ে তৈমুর আলম বলেন, বন্দর থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় হাতি প্রতীকের এজেন্ট থাকলেও আশপাশের এলাকায় কর্মী–সমর্থকদের উপস্থিতি তেমন নেই। আগের রাতে পুলিশের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ানোর পাশাপাশি নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
আইভী ও তৈমুর আলম ছাড়া মেয়র পদে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসিম উদ্দিন (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)।
এছাড়া, কাউন্সিলর পদে সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ ও সংরক্ষিত আসনে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন ছাড়াও এদিন টাঙ্গাইল–৭ আসনে উপনির্বাচন ও পাঁচ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, “সেখানেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। পাঁচ পৌরসভায় প্রায় ৬০% ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। টাঙ্গাইলে প্রায় ৩১% ভোট পড়েছে।”
এই নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বেসরকারিভাবে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯২টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট।