সাফারি পার্কে জানুয়ারি মাসে ১১ জেব্রার মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অসুস্থ আরেকটি জেব্রাও মারা গেছে। 

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জেব্রাটি মারা গেছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান। 

এ নিয়ে এ বছরের জানুয়ারি মাসে সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রার মৃত্যু হলো।


আরও পড়ুন- সাফারি পার্কে আরও এক জেব্রার মৃত্যু


সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল কবীর জানান, শনিবার সকালে দুটি জেব্রা অসুস্থ হয়ে পরে। তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ জেব্রা দুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তারপরও শনিবার সকালে একটি ও সন্ধ্যায় দ্বিতীয় জেব্রাটি মারা যায়। 

জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রেপ্টোকক্কাস, ইকোলাই, ক্লোসট্রিডিয়াম, সালমোনেলা ও প্যাসটুরেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ৫টি এবং নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আরও চারটি জেব্রা মারা গেছে।

পরে, গত ২৫ জানুয়ারি গঠিত ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড পার্কে উপস্থিত হয়ে জেব্রার মৃত্যু রোধে করণীয় ও কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করে। এ সময় বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য শহীদুল্লাহ জেব্রা মৃত্যুর কারণ ও দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন। 


আরও পড়ুন- মারামারি ও সংক্রামক অসুখে মারা যায় সাফারি পার্কের জেব্রাগুলো


পরামর্শগুলো হচ্ছে- জেব্রাদের বসবাসের জায়গার মাটিতে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে জীবাণু ধ্বংস করতে হবে, পার্কের জলাধারের পানি পরিবর্তন করতে হবে, জেব্রাগুলোকে টিকার আওতায় আনতে হবে, খাবার হিসেবে পরিপক্ব ঘাসের ব্যবস্থা করতে হবে, শুকনো খাবার ফাঙ্গাসমুক্ত করে পরিবেশন করতে হবে, ঘাস পানিতে ভালো করে ধুয়ে এবং কেটে খাবারের নির্দিষ্ট পাত্রে পরিবেশন করতে হবে, পার্কের অভ্যন্তরে পতিত জমিতেই ঘাস উৎপাদন করে পার্কের প্রাণীদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে, জেব্রাদের বেষ্টনীতে বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, অতিরিক্ত নিরাপত্তাকমীর্র ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নাইট ভিশন ক্যামেরাসহ পুরো বেষ্টনীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

ছয় সদস্য বিশিষ্ট এ বোর্ডের মধ্যে ছিলেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. আবু হাদী নুর আলী খান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম, ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সাবেক প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ও ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এবিএম শহীদ উল্লাহ, গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন এবং সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাদ জুলকার নাইন।