আইসিটি প্রতিমন্ত্রী: সরকার প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গড়তে কাজ করছে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে আজ বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আমাদের সন্তানরা বিদেশে গিয়ে রক্ত ঘাম করা পয়সা দিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠায় বলে আমাদের সাংসদ-মন্ত্রীদের বেতন-ভাতা হয়। আমাদের গাড়ি-বাড়ি আর রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হয়। কিন্তু আমরা আর শ্রমিক থাকতে চাই না। এজন্য শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গড়তে সরকার কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জের ঘিওরে ৩৭ জন তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “সারা দেশে সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ করছে। তাদের আয় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক রেমিটেন্স আয় করার জন্য তাদেরকে সৌদি আরব, ইউরোপ-আমেরিকায় যেতে হচ্ছে না। তারা ইন্টারনেটে একটি ল্যাপটপ ব্যবহার করে ওই দেশগুলোর বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জন করছে।”

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “ফ্রিল্যান্সারদের যাতে উদ্যোক্তা বানানো যায় এজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের প্রতিটি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১১টি আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের মধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা রয়েছে। এতে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিবছর এখান থেকে এক হাজার ছেলে-মেয়ে প্রশিক্ষণ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের মধ্যে হার্ডওয়্যার ও সফওয়্যার অর্থাৎ আইটি সেক্টরে ৩০ লক্ষাধিক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। মাত্র ৫ বছরে সারা বাংলাদেশে সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার, ৩ লাখ ইকমার্স উদ্যোক্তা, হার্ডওয়্যার ও সফওয়্যার মিলে আইটি সেক্টরে প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে সরকার।”

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “যদি ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মরকার নির্বাচিত হতো, তাহলে আজকে হাইটেক শিল্পে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের দিকে নজর দেয়নি, বরং তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের অভ্যায়রণ্য সৃষ্টি করেছিল।”

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি পরিচালক এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ন কুমার ঘোষ, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।