Tuesday, July 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তথ্য উপদেষ্টা: শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করাই সরকারের লক্ষ্য

জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণ চায়, আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের যে রায় রয়েছে, তা যেন বহাল থাকে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে এবং ভারতের কাছেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশনা। তাই সরকার কেবল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা শুরু থেকেই তাকে প্রত্যর্পণ করার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি দেশে ফিরলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব। তবে 'স্বাগত জানানো'র অর্থ এই নয় যে আমরা তাকে রাজনৈতিকভাবে বরণ করছি, বরং আমরা তার জন্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাই তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যদি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, তবে তা অত্যন্ত ভালো। দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বর্তমানে আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা আইনজীবীদের এনেও নিজের পক্ষে লড়াই করতে পারেন। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার হোক এবং আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে রায় রয়েছে, তা যেন বহাল থাকে। জনগণ সেই রায় কার্যকর হতে দেখতে চায়।”

উপদেষ্টা বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) যদি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, কিংবা আদালত যদি তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেন বা খালাস দেন—আমরা তা মেনে নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি এমনই হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “তিনি ঠিক কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেই প্রক্রিয়াটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি সেখানে কীভাবে অবস্থান করছেন, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিষয়। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে সেই রাষ্ট্র আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বিষয় যা আটকে থাকবে না। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “এই আদেশ সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।”

   

About

Popular Links

x