শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনার তৃতীয় দিনে আরও দুই মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় তল্লাশি অভিযানের তৃতীয় দিনে এক শিশুসহ আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকালে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ শাহ সিমেন্ট এলাকা থেকে এক পুরুষ এবং হরিহপুর এলাকা থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, তৃতীয় দিনের অভিযানে আরো দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশু, অপরজন পুরুষের মরদেহ। পুরুষের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছর আর শিশুটির বয়স ৩ থেকে ৪ বছর হবে। তবে তাদের পরিচয় এখনও  শনাক্ত করা যায়নি।


আরও পড়ুন- বারবার দুর্ঘটনা আর সুপারিশের পরেও চলছে ছোট লঞ্চ


তিনি আরও জানান,  নিখোঁজদের তালিকা অনুযায়ী এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন- ঢাকা ডেমরার আব্দুল্লাহ আল যাবের আদনান (৩২), মুন্সিগঞ্জের মোসলেম উদ্দিন হাতেম (৫৫), আরোহী (৩) ও জোবায়ের হোসেন (৩৫) ।

এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তারা হলেন- সোনারগাঁও হরিয়ান প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা উম্মে খাইরুন ফাতিমা (৪০), মুন্সিগঞ্জের উত্তর ইসলামপুর এলাকার জুলফিকার ভুঁইয়ার ছেলে জয়নাল ভুঁইয়া (৫০), একই এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী আরিফা বেগম (৩৫) ও তার ছেলে সাফায়ত মাহিদ (২), জয়রাম রাজবংশীর মেয়ে শিল্পী রানী (১৯), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ইউনুস মিয়ার স্ত্রী  সালমা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে ফাতেমা (৭)।


আরও পড়ুন- শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনায় দুই মামলা


এদিকে, লঞ্চডুবির ঘটনায় সোমবার (২১ মার্চ) কার্গো জাহাজের চালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অবহেলা ও বেপরোয়া গতিতে চলাচলের অভিযোগে  বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের ((বিআইডব্লিউটিএ) নদী বন্দর বিভাগের উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে নৌ আদালত ও বন্দর থানায় ২টি মামলা করেন। এ মামলায় ৮ জনকে ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

এছাড়া, শীতলক্ষ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চডুবির ঘটনার পর রুটটিতে (নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ) রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।


আরও পড়ুন- নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ


উল্লেখ্য,নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল আশরাফউদ্দিন রবিবার (২০ মার্চ) ২টা ২০ মিনিটে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজের ধাক্কায় কয়লাঘাট এলাকায় ডুবে যায়। এ সময় লঞ্চের ১৫ থেকে ২০ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বিকাল ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্যরা লঞ্চটির ডুবে যাওয়া স্থান শনাক্ত করে।

সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা ৩৫ মিনিটে উদ্ধারকারী জাহাজ “প্রত্যয়” প্রায় ৭৫ ফুট অর্থাৎ ৫৫ হাত নিচ থেকে পণ্যবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া এমএল আশরাফউদ্দিন লঞ্চটি উদ্ধার করে। লঞ্চটিতে একজনে মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নৌ মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনসহ ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।