রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৫) ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি বালিকা কলেজের ছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতি (২০) হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
শুক্রবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার রিফাত মোহাম্মদ শামীম। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আরফানউল্লাহ দামাল।
আরও পড়ুন- ডিবি: জাহিদুলকে হত্যার জন্য পাঁচ দিন আগে ভাড়া করা হয় মাসুমকে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের একটি দল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরফানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। রিফাত মোহাম্মদ শামীম বলেন, “তার কাছ থেকে একটি বন্দুক জব্দ করা হয়েছে।”
উপ-কমিশনার জানান, আরফানুল্লাহর বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হবে এবং তাকে আদালতে হাজির করার পর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় এলোপাথাড়ি গুলিতে রিকশায় থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতিও নিহত হন।
আরও পড়ুন- ‘এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই জাহিদুলকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা’
২৭ মার্চ এ জোড় খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি আকাশকে (৩৪) বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিবি জানায়, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাসুমের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২৮ মার্চ দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন আকাশের জামিন আবেদন নাকচ করে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন- কার শাস্তি চাইব, কার কাছে চাইব বিচার?
এর আগে রবিবার ডিবির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পাঁচ দিন আগে মাসুমকে ভাড়া করা হয়। ঘটনার তিন দিন আগে অপরিচিত এক ব্যক্তি কমলাপুরের ইনল্যান্ড ডিপো এলাকায় এসে মাসুম এবং তার সহযোগীকে একটি মোটরসাইকেল ও অস্ত্র দিয়ে যান।”
ডিবি জানায়, জাহিদুল মতিঝিল এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অনেকগুলো বিষয় কাজ করেছে। তবে পূর্বপরিকল্পিত এই ঘটনার “মোটিভ” এখনও অজানা।