কুসিক নির্বাচন: জাল ভোট ও বিঘ্ন সৃষ্টির দায়ে ৬ জনকে সাজা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা ও জাল ভোট দেওয়ার দায়ে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়। অপর পাঁচজনকে তিন থেকে এক সপ্তাহের সাজা দেওয়া হয়।

কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল সৃষ্টির চেষ্টা জাল ভোট দেওয়ার দায়ে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করায় বহিরাগত ৪ জনকে ৩ থেকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর জাল ভোট দেওয়ায় একজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে পাঁচ বহিরাগতকে সকাল সোয়া ১০টায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অবশ্য তাদের ভোটার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, বিজিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার জন্য মাইকিং করেন।

বুধবার (১৫ জুন) কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চলছে।

এবারের কুসিক নির্বাচনে  ৫ জন মেয়র প্রার্থী, ১০৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী, ৩৬ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৩৮ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী লড়াই করছেন। এবার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দু'জন। মোট ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট হবে। এখানে  এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ১০৮ জন প্রার্থী ।

এদিকে, সুষ্ঠু ভোটের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানিয়েছে। ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে আছে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।

প্রায় দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণা। গত ২৭ মে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর শুরু হয় নির্বাচনী প্রচার। শেষ সময়ে এসে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় ভোটের মাঠ সরগরম ছিল।