কুমিল্লায় ভোটগ্রহণ শেষ, ফলাফলের অপেক্ষা

কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। ভোটের আগে কথার লড়াই উত্তাপ ছড়ালেও ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মুখে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। ভোটার উপস্থিতি নিয়েও মোটামুটি সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন।

বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

তবে ইভিএমের এ নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ধীরগতিতে ভোট হওয়ায় ভোটারদের কিছুটা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। অবশ্য ভোটের পরিবেশ নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন কোনো পক্ষ থেকেই আসেনি।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলেছে। ওই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যে যারা ঢুকেছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাদের সবারই ভোট নেওয়া হবে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু সকাল ৯টার দিকে নগরীর হোসামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাক্কু বলেন, “নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।”

সকাল সোয়া ৯টার দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট হাইস্কুলে ভোট দেন রিফাত। নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, “তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”

পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারও একই কেন্দ্রে ভোট দেন।

সকালে বৃষ্টির মধ্যেও বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুমিল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার ফজলুল করিম জানান, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোট কেন্দ্রে ৪২ মিনিট ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়।

কেন্দ্রের ছয়টি বুথের মধ্যে এক নম্বর বুথের ইভিএম মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে কারিগরি দল মেশিনটি মেরামত করে পরিবর্তন করার ৪২ মিনিট পর এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রটি নারী ভোটারদের জন্য স্থাপন করা হয় এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে ৫১ মিনিটে একটি ভোট পড়ে।

এ নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১১ সালে গঠিত হওয়ার পর এটি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক‌ঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ।

মঙ্গলবার সকালে শহীদ ধী‌রেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ বলেন, “পুরো কুমিল্লা নগরী নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা জোরদার কর‌তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার সব নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। নগরীর অন্তত ৭৫টি জায়গায় তল্লাশি চৌ‌কি বসানো হ‌য়ে‌ছে।”

এই নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করেছেন উল্লেখ ক‌রে এসপি ফারুক আহমেদ বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি ভো‌টের মাঠে তিন হাজার ৬০৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মঙ্গলবার থেকেই কাজ করেছেন।”

২০১৭ সালের ৩০ মার্চ সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন।