শাওন: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ আমার একার পক্ষে অসম্ভব

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, “ক্যান্সার হাসপাতাল নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের যে স্বপ্ন ছিল তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি-সামর্থ্য আমার একার নেই। তাছাড়া যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তাও নেই। সমষ্টিগতভাবে আমরা সবাই চেষ্টা করলে হয়তো হবে।”

হুমায়ূন আহমেদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকালে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে আয়োজিত মিলাদ-মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শাওন বলেন, “একটা ভালো খবর দেই, হুমায়ূন আহমেদের নিজ গ্রামে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠটি তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীর মাসেই ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় মেধার ছাপ রাখছে। এটা আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। এরকম ছোট ছোট পদক্ষেপে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, “হুমায়ূন আহমেদ যে ধরনের ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপনের স্বপ্ন দেখছিলেন তা নির্মাণে উদ্যোগ নিতে আমি বিভিন্নজনকে বলার চেষ্টা করছি বা সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশের সরকার তথা নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ করছি। সরকার যদি উদ্যোগ নেয় পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে যা করা দরকার হয় তা আমরা করব। ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আমি ক্লান্ত হয়ে যাই। কিন্তু আসলে আমার একার পক্ষে এটা সম্ভব না।”

হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি যাদুঘর স্থাপন প্রসঙ্গে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব। এটা হবে। নুহাশ পল্লীতেই হবে। হুমায়ূন আহমেদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো খুব সুন্দরভাবে সংগৃহীত আছে। তার হাতে আঁকা ছবিগুলো অনেকদিন ধরে নিউইয়র্কের এক ব্যক্তির কাছে আটকে ছিল। অতি সম্প্রতি সেই ছবিগুলো আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমরা সব ছবিগুলো হাতে পেয়েছি। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের সন্তানদের কাছে, আমার কাছে যা কিছু ছবি আছে এগুলো স্মৃতি যাদুঘরে থাকবে। বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে তার হাতে লেখা যে স্ক্রিপ্টগুলো ছিল সেগুলো তারা যাদুঘরে দান করবেন। আমরা আশা করি শিগগিরই হুমায়ূন আহমেদের যাদুঘরের নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।”

এদিন বেলা ১১টায় হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তার দুই ছেলে নিশাত হুমায়ুন ও নিনিত হুমায়ুনসহ ভক্ত, হিমু পরিবহনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়াত কথাসাহিত্যিকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।