গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২১-২২ সেশনের প্রথম বর্ষের “এ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তানভীর আহমেদের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসে বায়েজিদ নামে এক শিক্ষার্থী আটক হন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৩৯৫৩৪ রোল নম্বরধারী তানভীর আহমেদ নামের ওই পরীক্ষার্থী ৯২.৭৫ নম্বর পেয়ে গ্রুপ-২-এ প্রথম হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে চারদিকে সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ওই পরীক্ষার্থীর ফলাফল বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
ফলাফল বাতিল প্রসঙ্গে “এ” ইউনিটের পরীক্ষা কমিটির সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন বলেন, “তার (তানভীর আহমেদ) ফল বাতিল করা হয়েছে। ওএমআর শিটে কোনো সুপারিশ ছিল না। ফ্রেশ খাতা হিসেবে এসেছে, সেটার মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।”
ইলিয়াস হোসেন আরও বলেন, “পরীক্ষা চলাকালীন কাউকে সন্দেহ হলে ওএমআর শিট আলাদা রাখতে হয়। বায়েজিদ খানকে (তানভীরের হয়ে পরীক্ষাদাতা) পরীক্ষা চলাকালীন সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তিনি প্রক্সি দিয়েছেন প্রমাণ পেয়ে মামলা-জেল দেওয়া হলো। এগুলোর পরও তার ওএমআর আলাদা হয়নি। প্রক্টর দপ্তর থেকেও এই রোল নম্বরধারীর হয়ে প্রক্সি দেওয়ায় একজনকে জেলে পাঠানোর কথা আমাদের জানানো হয়নি। ফ্রেশ ওএমআর এসেছে, মূল্যায়ন করে ফল ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন সেটা বাতিল করা হয়েছে।”
অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক পরীক্ষার্থীর হয়ে অন্য আরেকজন প্রক্সি দেওয়ার পরেও ওএমআর বাতিল না হওয়ার পেছনে পরীক্ষকের দায় দেখছে ভর্তি উপকমিটি। সেজন্য দায়িত্ব অবহেলার কারণে পরীক্ষককে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষা উপ কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, “ওই পরীক্ষার্থীর ফল বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার হলে আটক হওয়ার পরই ওই কক্ষের পরীক্ষক তার খাতা বাতিলের সুপারিশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। ওএমআরে কোনো সুপারিশ নেই। অ্যাটেনডেন্সে সুপারিশ আছে কি-না জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এখানে পরীক্ষকের দায় অবশ্যই রয়েছে। পরীক্ষক দায়িত্ব অবহেলার দায় এড়াতে পারেন না। তার কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।”