Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৯

মোহাম্মদপুরে শ্যামলী এলাকায় অভিযুক্তরা ছিনতাই ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় ছিনতাই ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা সাদমান সাকিব নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীকে জিম্মি করলে পুলিশের পেট্রোল টিম দেখে চিৎকার করে। এ সময় অপহরণ চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন—জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩), মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, “আদাবর এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ কিছু ঘটনার সংবাদ পাচ্ছিলাম। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটছিল। বেশ কিছু দিন আগেও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ একটা চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে।”

তিনি জানান, ঘটনার দিন সাদমান সাকিব রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে তিন-চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে। পরে তাকে গলির মধ্যে নিয়ে তার কাছ থেকে মোবাইল, টাকা পয়সাসহ মানিব্যাগ  ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এসময় শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহল পুলিশকে দেখে অভিযুক্তরা চাকু লুকিয়ে ফেলে। এ সময় ভুক্তভোগী পুলিশের গাড়ি দেখে সাহস পেয়ে চিৎকার করেন। তখন টহল পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দেখে জাহিদ ছাড়া বাকি সবাই পালিয়ে যায়। জাহিদকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় চক্রের মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল কিনতে যায় তখন এদেরকে টার্গেট করতো। একা যারা থাকতো তাদেরকে টার্গেট করে অপহরণ করা হতো।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে  মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। জাহিদসহ আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে দুইটা করে মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হবে। এর সঙ্গে আরও কোনো চক্র আছে কিনা, তারা আর কোথায় কোথায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কোনো ভুক্তভোগী আছে কিনা সেটাও দেখার চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান, গ্রেপ্তার এই চক্রটি ভুক্তভোগীর মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ আদায় করতো। পরে ভুক্তভোগীকে কোথাও ফেলে দিয়ে চলে যেতো বলেও জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x