এক বছর বন্ধ থাকার পর, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি ২৮ অক্টোবর থেকে “ধন্যবাদ উৎসব”-এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করে। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির “সংকটকালীন সময়ে” প্রাপ্ত বিপুল সমর্থন সৃষ্টি করা।
এদিকে, ইভ্যালি আগের ডোমেইনের (evaly.com.bd) মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, ফলে তাদেরকে একটি নতুন ডোমেইন (evaly.com) ব্যবহার করতে হয়েছিল।
ইভ্যালির সহ-উদ্যোক্তা শামীমা নাসরিনের দাবি, “মোহাম্মদ রাসেলকে ছাড়া সার্ভারে অ্যাক্সেস দেবে না অ্যামাজন।” প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন- ‘গিফট কার্ড' বিক্রি করতে পারবে না ইভ্যালি, নির্দেশ সরকারের
শামীমা নাসরিন ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমরা আমাদের প্রাথমিক ডোমেইন (evaly.com.bd) দিয়ে সার্ভার চালু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ডোমেইনটি বর্তমানে বিটিসিএলের কাছে রয়েছে, আমাদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে, যেহেতু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি নতুন ডোমেইনের মাধ্যমে তাদের কাজ শুরু করেছে, তাই পুরনো গ্রাহকদের তথ্য বা বকেয়া অর্থের পরিমাণ জানা সম্ভব নয়। ফলে পুরনো সার্ভারের পাসওয়ার্ডের কারণে ইভ্যালির গ্রাহক এবং ব্যবসায়ীদের সমস্ত অর্থপ্রদান আটকে রয়েছে।
ইভ্যালির আদালত-নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব কবির মিলনের মতে, “পুরনো সার্ভার ছাড়া গ্রাহকদের পাওনা টাকার পরিমাণ এবং এর সত্যতা অনুমান করা সম্ভব না।”
শামীমা নাসরিন বলেন, “আশা করছি পুরানো সার্ভারটি খুব শীঘ্রই হাতে পাব। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। গ্রাহকদের সমস্ত পুরানো তথ্য অ্যামাজনে সুরক্ষিত আছে। আমরা আশা করছি শীঘ্রই পুরানো সার্ভারের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব।”
“ধন্যবাদ উৎসব”-এর প্রচারণা শুরুর আগে ইভ্যালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে বলা হয়, “আমরা ফিরে এসেছি”। এছাড়া তখন গ্রাহকদেরকে গুগল প্লে স্টোর থেকে ইভ্যলির অ্যাপ আপডেট করতেও বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন- গবেষণা: ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ই-কমার্স বাজারের পরিধি দ্বিগুণ হবে
ইভ্যালি একটি নতুন প্রচারণার মাধ্যমে অফিসিয়াল রিটার্ন শুরু করেছে, যেটি শুরু হয়েছিল ২৮ অক্টোবর রাত ১০টায় ইভ্যালি অ্যাপের মাধ্যমে। যদিও, প্ল্যাটফর্মটি চালুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।
যদিও পরবর্তীতে ইভ্যালি এই সমস্যার জন্য গ্রাহকদের কাচ্ছে দুঃখ প্রকাশ করে। তারা তখন জানায়, ইভ্যালির সার্ভার সকল গ্রাহকদের ভার বহন করতে অক্ষম ছিল। তবে ওইদিন রাতেই অ্যাপটির পরিষেবা আবারও শুরু হয়।
১ নভেম্বর ইভ্যালিকে গিফট কার্ড, ভাউচার, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সামগ্রী বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালিকে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি বেআইনিভাবে “গিফট কার্ড” বিক্রি করছে। এ কার্যক্রম বন্ধ না করলে ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা অনুযায়ী গিফট ভাউচার বিক্রির নিয়ম নেই। কিন্তু ইভ্যালি তা করছে। এজন্যই এ কার্যক্রম বন্ধে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন- ইভ্যালির রাসেল-শামীমার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ
এর আগে, ইভ্যালি নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ২৪-৫৯% ছাড়ে বিভিন্ন ধরনের গিফট কার্ড, গিফট ভাউচার, ওয়ালেট, ক্যাশ ভাউচার বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে।
২০২১ সালের ৪ জুলাই জারি হওয়া ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সব ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোনো মাধ্যম; যা অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তৈরি, ব্যবহার বা কেনাবেচা করা যাবে না।